নওগাঁয় রাস্তার পাশে থেকে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার
রায়হান, সাপাহার নওগাঁ (প্রতিনিধি):
নওগাঁয় রাস্তার পাশ থেকে পাখি আক্তার (২৬) নামে এক গৃহবধূ’র মৃতদেহ উদ্ধার পূর্বক ময়না তদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেছে থানা পুলিশ। গৃহবধূ পাখি আক্তারের মৃত্যু নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে সন্দেহ ও প্রশ্ন। আর সেই সন্দেহের তীর গ্রাম্য মাতব্বর ও স্বামীর পরিবারের দিকে। তবে ময়না তদন্তের রির্পোট আসলে মৃত্যুর সঠিক কারন জানাযাবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ। বৃহস্পতিবার ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে নওগাঁর মান্দা উপজেলার দাওয়াইল – হলুদঘৈর মোল্লাপাড়া ব্রীজ এলাকায় রাস্তার পাশে অজ্ঞাতনামা এক নারীর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানিয়রা থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে মান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট অন্তে ময়না তদন্তের জন্য মৃতদেহটি উদ্ধারের পাশাপাশি নিহতের নাম-পরিচয় সনাক্তের চেষ্টার এক পর্যায়ে তার নাম – পরিচয় সনাক্ত হয়। মৃতদেহটি হলো, মান্দা উপজেলার ভারশোঁ গ্রামের লবির উদ্দীন সরদারের মেয়ে দু’ সন্তানের জননী পাখি আক্তারের। নিহতের বাবা ও স্থানিয় সুত্রমতে, মোবাইল ফোনে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্কের সুত্রে প্রায় ৩ মাস আগে পাখি আক্তারকে বিয়ে করেন দাওয়াইল গ্রামের জিয়ারুলের ছেলে তাইজুল ইসলাম। বিয়ের পর থেকেই তাইজুল ইসলামের পরিবার গৃহবধূ হিসেবে পাখিকে মেনে নিতে রাজি ছিলো না। এরই এক পর্যায়ে ২০-২৫ দিন আগে জৈনক গ্রাম্য মাতব্বরের নের্তৃত্বে ১ লাখ টাকা মোহরানার স্থানে মাত্র ২০ হাজার টাকায় রফাদফা করা হয়। এমনকি সেই মাতব্বর সে সময় গৃহবধূ পাখিকে এক প্রকার চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা নিয়ে তালাক দেয় যা মেনে নিতে পারেনি গৃহবধূ পাখি। এছাড়াও ২০ হাজার টাকা থেকে সেই মাতব্বর ৫ হাজার টাকা পকেটে রেখে ১৫ হাজার টাকা দেন গৃহবধূকে। মাতব্বরের পকেটে থাকা সেই ৫ হাজার টাকা আদায়ের জন্য মাঝে মাঝেই সেই মাতব্বর এর কাছে আসতেন পাখি। ঘটনার আগের রাতেও মাতব্বরের সাথে পাখিকে ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন স্থানিয়রা। এজন্যই স্থানিয়দের সন্দেহর তীর মাতব্বর সহ নিহতের স্বামীর পরিবারের দিকে। এব্যাপারে নিহত গৃহবধূ পাখি আক্তারের বাবা লবির উদ্দীন সরদার বলেন, আমার মেয়ের মৃত্যুর পেছনে রয়েছে গ্রাম্য মাতব্বর ও মেয়ে জামাইয়ের পরিবার সহ স্থানিয় আরো কয়েকজন। তিনি আরো বলেন, কিছুদিন আগেও পাখির শাশুড়ি আমাদের বাড়িতে গিয়ে আমার মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে এসেছেন এরপর আজ অজ্ঞাত মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে এসে দেখি আমার মেয়ে পাখির মৃতদেহ। এসময় তিনি তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে তদন্ত পূর্বক ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ সহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তার আশুদৃষ্টি কামনা করেছেন। মৃতদেহ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ মনসুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে প্রাথমিক সুরতহাল রির্পোট অন্তে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রির্পোট আসার পরই মৃত্যুর সঠিক কারন জানাযাবে। ঘটনাটি উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।