• শনিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন
Headline
মুন্সীগঞ্জে সরকারি হরগঙ্গা কলেজের এলামনাই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত কর্মবিরতিতে থাকা প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষককে অন্য জেলায় বদলী রোববার উন্নত চিকিৎসার জন্য বেগম জিয়াকে নেয়া হচ্ছে লন্ডনে, সাথে যাচ্ছেন ১৬ জন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে অগ্নিসংযোগ, সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ বগুড়ায় ৭০০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ সাদ্দাম গ্রেফতার, শামীম পলাতক মুন্সিগঞ্জের জাতীয় নিরাপদ সড়ক চাই(নিসচা) এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের আওতায় মিউটেশন ২.১ ভার্সন ও মানোন্নীত সফট্ওয়্যারের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত দেশের সরকারি-বেসরকারি স্কুলে প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তিতে আগামী ১১ ডিসেম্বর ডিজিটাল লটারি মুন্সীগঞ্জে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও রোগমুক্তি কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত এম এইচ ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নতুন ক্যাম্পাসের গ্রান্ড ওপেনিং অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

সাম্য হত্যার বিচারের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম সাদা দলের

জনজীবন / ৪৫২ Time View
Update : রবিবার, ১৮ মে, ২০২৫

জনজীবন ডেস্ক :://

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার বিচারের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’। এই সময়ের মধ্যে সাম্য হত্যার প্রকৃত খুনিকে বের করা না হলে তারা কঠোর আন্দোলনে যাবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।

রোববার, ১৮ মে ২০২৫, বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে ঢাবির অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।

এ সময় সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, “সাম্য মারা যায়নি, হত্যা করা হয়েছে। সাম্য হত্যার আজ পাঁচ দিন পূর্ণ হলো। এই পাঁচ দিনে আমরা একটি ‘আইওয়াশ’ গ্রেফতার দেখেছি, যা আমরা মানতে বাধ্য নই। সাম্য হত্যার প্রকৃত হত্যাকারীকে বের করার জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি। আমরা ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিচ্ছি—এর মধ্যে যদি সাম্য হত্যার প্রকৃত খুনিকে খুঁজে বের করা না হয়, তাহলে আমরা আরও জোরালো আন্দোলনে যাব।”

তিনি বলেন, “আমরা কোনো ব্যক্তি স্বার্থে কাজ করব না। সাম্য হত্যার মোটিভকে অন্যদিকে ডাইভার্ট করতে চাইছে একটি গ্রুপ। আগে সাম্য হত্যার বিচার হবে, তারপর আমরা অন্য আলাপ করব। ২ মাস আগে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রকে হত্যা করা হয়েছে, তারও বিচার হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, বিচার হয়নি। আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলব—সাম্য হত্যার বিচার থেকেই শুরু করুন।”

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এই নয় মাস ধরে সংস্কারের বুলি আওড়াচ্ছে সরকার। কিন্তু কোনো অগ্রগতি আমরা দেখতে পাচ্ছি না। শুধু গুম, খুন—আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সরকার কোনো ধরনের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। সরকারকে বলব, আগে দেশকে ভালোবাসুন, দেশের জন্য কাজ করুন। খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো সরকার টিকে থাকতে পারেনি, আপনারাও পারবেন না। দেশের জন্য কাজ করলে আমরা সবাই পাশে থাকব। দেশের জন্য কাজ না করলে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হব। দেশকে অরাজক অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন আপনারা। সাম্যকে অন্তত টার্গেটেড কিলিং করা হয়েছে। তাকে যেভাবে আঘাত করা হয়েছে, সাধারণ কেউ সেভাবে আঘাত করতে পারে না। প্রকৃত খুনিকে বের করতে হবে, বিচার করতে হবে।”

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “জাতি হিসেবে আমি অত্যন্ত লজ্জিত—আমার যে ভূমিকা সেটি আমি পালন করতে পারিনি। নাগরিক হিসেবে আমার যে দায়িত্ব, সেটিও আমি পালন করতে পারছি না। একজন বাবার কাছে সন্তানের লাশ অনেক ভারী, আর একজন শিক্ষকের কাছে শিক্ষার্থীর লাশ আরও ভারী, আরও বেদনাদায়ক। সেই ক্যাম্পাসে আমরা দেখছি, আমার শিক্ষার্থী দুর্বৃত্তের ছুরির আঘাতে মৃত্যুবরণ করেছে। আমাদের এই ক্যাম্পাস নিরাপদ নয়, নিরাপদ করতে পারছি না।”

তিনি আরও বলেন, “গত বছরের ৫ আগস্ট একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়েছে। সেই সরকার পতনে সাম্যর ভূমিকা ছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশ বিনির্মাণে সাম্যের অবিরাম ভূমিকা চলছিল। সেই বিনির্মাণ বাধাগ্রস্ত করতে একটি মহল উঠে পড়ে লেগেছে। তারা সাম্যসহ আরও অনেককে টার্গেট করেছে, যাতে পরাজিত শক্তির বিচরণ এই ক্যাম্পাসে হয়। এখনো সেই পরাজিত শক্তি ক্যাম্পাসে অবাধে বিচরণ করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং সাম্য হত্যার বিচার দাবি করছি। পাশাপাশি, আমরা নিরাপদ ক্যাম্পাসেরও দাবি জানাচ্ছি, যেন আর কেউ এভাবে নিহত না হয়।”

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বলেন, “ঢাবির শিক্ষক হিসেবে আমি লজ্জিত হই, যখন দেখি আমার ছাত্র, আমার সন্তান, অন্যের হাতে প্রাণ হারাতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে যখন দেশের শিক্ষক সমাজ অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে দাঁড়ায়, তখন জাতি বুঝতে পারে এটি কতটা বেদনাদায়ক।”

তিনি বলেন, “আমরা যদি একটু পেছনে ফিরে তাকাই, তাহলে বুঝতে পারব এটি ক্ষণিকের ঘটনা নয়। বিগত ১৬-১৭ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে এসেছে একটি ছাত্র সংগঠন। অন্যান্য ছাত্র সংগঠন তাদের কার্যক্রম চালাতে পারেনি। ছাত্রদলকে এই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। আজ আমরা একটি পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যে আছি, যা গত জুলাইয়ের আন্দোলনের ফসল। বাংলাদেশ নতুনভাবে যাত্রা শুরু করেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও এর ব্যতিক্রম নয়। এই সময়েই, পরিকল্পিতভাবে সাম্যকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ধরনের ঘটনা চাই না। শিক্ষক হিসেবে, বাবা হিসেবে আমরা লজ্জিত। আমরা সাম্য হত্যার বিচার দাবি করছি।”

তিনি আরও বলেন, “শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, রাষ্ট্রীয়ভাবেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব দোষীদের বিচার করুন।”

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান। আরও উপস্থিত ছিলেন সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম ও অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান, ব্যবসা প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন, শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আলী জিন্নাহ প্রমুখ।

গত মঙ্গলবার (১৩ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এএফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহরিয়ার আলম সাম্য দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে মৃত্যুবরণ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা