মোঃ সাইফুল ইসলাম :::///
রাজধানী ঢাকার ওয়ারীর বাসা থেকে মুন্সীগঞ্জে এসে নিখোঁজ হওয়া যুবক মো. সাইফুল ইসলাম লিখনের (৩৩) সন্ধান চেয়ে মানববন্ধন ও থানা ফটকে বিক্ষোভ করেছে নিহতের স্বজন ও স্থাণীয়রা।
এ সময় তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে।
১ মার্চ শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জ শহরের মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে কামরখাড়া ইউনিয়নবাসীর ব্যানারে এ মানববন্ধন করে। পরে তারা মুন্সীগঞ্জ সদর থানার মেইন ফটকে বিক্ষোভ করেন।
মানববন্ধনে নিখোঁজ যুবকের স্বজনসহ এলাকাবাসী অংশ নেন। মানববন্ধনে যুবকের সন্ধান চেয়ে নানা শ্লোগান দেওয়া হয়। এ সময় স্বজনদের কান্নার রোল পড়ে যায়। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে সদর থানা ফটকে অবস্থান গ্রহন করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় যুবকের সন্ধান দিতে পুলিশ আশ্বাস দিলে তারা সরে আসেন।
নিখোঁজ লিখনের গ্রামের বাড়ী মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার কামরখাড়া গ্রামে। পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন ঢাকার ওয়ারীতে।
নিখোঁজ যুবক লিখনের বাবা মো. দুলাল হাওলাদার জানান, মুন্সীগঞ্জ শহরের দক্ষিন ইসলামপুর এলাকার বন্ধু সাদ্দাম হোসেন সম্রাটের নিমন্ত্রনে গত ৬ ফেব্রুয়ারী ঢাকার ওয়ারীর বাসা থেকে রওনা হন তার ছেলে। মুন্সীগঞ্জ শহরে আসার পর ওইদিন রাত ৮ টার পর থেকে লিখন নিখোঁজ হয়। ২৩ দিন ধরে নিখোঁজ থাকলেও তার ছেলের কোনো সন্ধান পাচ্ছেন না।
বাবা দুলাল হাওলাদার আরো জানান, ছেলে নিখোঁজের ঘটনায় গত ৭ ফেব্রুয়ারী তিনি মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। এরপর তার সন্ধান না পেয়ে গত ১৩ ফেব্রুয়ারী সাদ্দাম হোসেন সম্রাটসহ ৬ বন্ধু নাম উল্লেখ করে অপহরন মামলা দায়ের করেন তিনি।
নিখোঁজ লিখনের বড় বোন ফাতেমা বলেন, আমার ভাই ২৫ দিন ধরে নিখোঁজ। এর আগেও আমরা মানববন্ধন করেছি পুলিশ কিছুই করতে পারে নাই। আমরা সন্দেহ বাজন আসামিদের নাম দিয়েছি, তারা তাদেরও জিজ্ঞেসাবাদ করে নাই। আমরা পুলিশ প্রশাসনকে এখন ৪৮ ঘন্টা টাইম দিয়েছি, তানাহলে আবারও ঘেরাও কর্মসূচী করবো।
এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সাইফুল আলম বলেন, আমার থানার পুলিশ ও ডিবি যুবকের খোঁজে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রথমে নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হয়। পরবর্তীতে কিছু তথ্য প্রমান পেয়ে একটি অপহরন মামলা রুজু করেছি। ইনশাআল্লাহ আমরা যুবকের একটা খবর দিতে পারবো। তাকে ফেরত আমরা আনবো।
এ বিষয় মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, আমরা নিখোঁজের বিষয় তদন্ত করছি। তদন্তে যারা জড়িত হবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।